উপায়টি বাতলে দিয়েছেন ইবনু হাযম জাহিরি রহ. [৩৮৪ – ৪৫৬ হি.]। সেদিন কর্ডোভার পথ ধরে কোথাও যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে দেখা হয়ে গেল প্রবল প্রতিদ্বন্দী মালিকি মাজহাবের তৎকালীন বিখ্যাত আলিম ইমাম আবুল ওয়ালিদ বাজি রহ. [৪০৩ – ৪৭৪ হি.] এর সর্বকনিষ্ঠ ভাই ইবরাহিম বিন খালফের সাথে। ইবরাহিম তখনও তালিবুল ইলম। বড় ভাইয়ের কাছে ইলম অর্জনে রত। রাস্তায় তার দেখা পেয়ে ইবনু হাযম রহ. কাছে ডেকে নিলেন। আদর করে জিজ্ঞেস করলেন :

  • কী পড়ছো ভাইয়ের কাছে, খোকা?
  • অনেক কিছু।
  • শোনো, আমি যদি ইলমের পথকে তোমার জন্য সংক্ষিপ্ত করে দিই, কেমন হয়? যেটুকু যা পড়বে তাতেই উপকার পাবে। দ্রুতই ফল দিতে শুরু করবে তোমার অধ্যয়ন। এক বছর বা তারচেয়ে কম সময়ে।
  • আপনার কথা সত্য হলে তো বেশ ভাল।
  • যদি একমাসের কম সময়ে হয়?
  • এটা তো আরও ভালো হয়। আমি তো এটাই চাই।
  • যদি আরও কম সময়ে হয়। এক হপ্তায়? বা এক মুহূর্তে?
  • এটা তো সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত আমার! হয় না কি এমন!
  • শোনো, সহজ পদ্ধতিটা বলে দিই তবে। যখন কোনো মাসআলার মুখোমুখি হবে সাথে সাথে কুরআন খুলে দেখবে। যদি কুরআনে পেয়ে যাও তো ব্যস। আর যদি না পাও তাহলে হাদিস খুলে দেখবে। যদি পেয়ে যাও সমাধান, সে মোতাবেক আমল করবে। আর যদি না পাও খুঁজে তাহলে উম্মাহর ঐকমত্য (ইজমা) আছে কি না দেখবে। থাকলে তো সে অনুসারে আমল করবে; না থাকলে মনে রাখবে, সকল জিনিস মৌলিকভাবে মুবাহ।

এই পর্যন্ত পড়ে পাঠক যেন আনন্দিত বা দ্বিধাগ্রস্ত না হন। ইবনু হাযম জাহিরি রহ. সম্পর্কে যারা জানেন তারা যেনো তেড়ে না আসেন। একটু সবুর করে একজন অল্প বয়েসী তালিবুল ইলমের উত্তরটা পড়ুন। এবং ভাল করে চিন্তা করুন, অনুবাদ পড়ে মুজতাহিদ বনে যাওয়া আমাদের ভাইদের সাথে মাদরাসায় ছেঁড়া কার্পেটে বসে দিনমান শরহে জামি আর মুখতাসারুল মাআনি আত্মস্থ করা তালিবুল ইলমের ব্যবধান আসলে কোথায়।

ইবরাহিম বললেন : ‘আপনি যে পথ দেখালেন, সেটা অতিক্রম করতে তো আমার পুরো জীবন লেগে যাবে। ধরুন কুরআন কারিমের কথা, কুরআনকে চিনতে হলে, সেখান থেকে মাসআলা বের করতে হলে আমাকে সবার আগে জানতে হবে নাসিখ কোনটা আর মানসুখ কোনটা। (মানে কোন হুকুম বলবৎ আছে, কোনটা রহিত হয়ে গেছে) চিনতে হবে আম, খাস, মুশতারাক, মুআওয়াল, জাহির, নস, মুফাস্সার, ‍মুহকাম, দালালাতুন নস, ইবারাতুন নস, ইশারাতুন নস, ইকতিযাউন নস। নতুবা হুকুম বের করতে পারবো না। কোনটা ধরতে হবে, কোনটা ছাড়তে হবে তার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবো না।

যদি হাদিসের কথা ধরি, তো সেজন্য আমাকে প্রথমে হাদিস মুখস্থ করতে হবে। কোনটা সহিহ হাদিস, কোনটা যয়িফ হাদিস এবং কোনটা আসলে জাল; হাদিস নয়, জানতে হবে। কোনটা মুসনাদ, কোনটা মুরসাল
 আর কোনটা ‍মুযাল সেটা জানতে হবে। আবার এসবের কোনটা গ্রহণযোগ্য, কোনটা গ্রহণযোগ্য নয় তাও জানতে হবে। জানতে হবে হাদিস থেকে মাসআলা বের করার পদ্ধতি ও সেই পদ্ধতির মৌলিক ও শাখাগত বিষয়। আর ঐকমত্যের কথা জানতে হলে তো পাড়ি দিতে হবে পুরো পৃথিবীর পথ; যা খুব অল্প মানুষের পক্ষেই সম্ভব।’

জবাব শুনে ইবনু হাযম প্রতিউত্তর করলেন না। বুঝে ফেললেন, ছোটটা আসলে বড়টার মতই হয়েছে। এরা শর্টকার্টে মুজতাহিদ হতে আগ্রহী না। ইলমের জন্য পুরো জীবনটাই খরচ করবে; ইলম অনুসন্ধানের ধ্রুপদী পন্থা ত্যাগ করবে না। কিন্তু এই সংকট একদিন অবশ্যই খতম হবে। ইলমের এই সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথে চলতে অনেকেই আগ্রহী হবে। সাপ্তাহিক ইফতা কোর্স খোলা হবে। শর্টকার্ট আলিম সিলেবাস তৈরী হবে। দু-তিনমাস ব্যাপী অনলাইনে শরীয়াহ গ্রাজুয়েশান কোর্স ‍শুরু হবে। এবং আরও সহজতার জন্য আল্লামা গুগল ও ইমাম ইউটিউবের জনপ্রিয়তা হবে আকাশচুম্বী।

পোস্ট টি শেয়ার করুন

অন্যান্য সকল পোস্ট