রৌদ্রময় নিখিল আলোর আবাবিল; সেই ফুলেরই রৌশনিতে অন্তরের দিকে মানুষের নাবী আলোর রাসূল আল আমীন।

সুসাহিত্যিক আবদুল আযীয আল আমানের বইগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর। দেশের ইসলামি সাহিত্যাঙ্গনের রথী-মহারথী অনেকেই ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বইগুলোর। অনেক খ্যাতনামা মুসলিম সাহিত্যজন কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বইগুলোর প্রতি; রচয়িতার প্রতি। অকপটে স্বীকার করেছেন, রচয়িতার অঞ্জলী চুয়ে পড়া সাহিত্যমদিরার সতৃষ্ণ পান তাদের পৌঁছে দিয়েছে পবিত্র পানশালার আলোর আসরে। মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন অনেক নবীন ও নবীশ সাহিত্যামোদীও। নিপাট কূপমণ্ডুকও ভ্রষ্ট হয়ে গেছে এখানে এসে; তানপুরায় ভুল সারগাম তুলে স্তাবকতা শুরু করেছে। এইসব শংসা, স্তুতি, কৃতজ্ঞতা ও মুগ্ধতার কলরব শুনে কাহাফি নিদ্রায় সুষুপ্ত আমার পাঠক-হৃদয়ের নিদ্রাভঙ্গ হয়েছিল। বিশেষত, প্রিয় লেখক মাওলানা শরিফ মুহাম্মাদ যখন জানিয়েছেন আমার কৈশোরকে আন্দোলিত করে তোলা তাঁর মোহনীয় রচনা ‘সবুজ গম্বুজের ছায়া’তে ছাপ আছে এই অল্পচর্চিত সাহিত্যসৃজকের। তাই আড়মোড়া দিতে দিতে হৃদয় কামনা করেছিল, অন্তত একবার পানপাত্রের শীতল স্পর্শ লব্ধ হবে তার; মুখোমুখি বসে। সেই স্পর্শ পেতে বেশ অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হলো। প্রকাশককে ধন্যবাদ। জাযাকাল্লাহ।

প্রতিটি বই যেন একেকটি স্বর্ণখনি। নিখাদ ভারী সোনায় বিত্তশালী একেকটি রচনা। দুএকটা নমুনা তুলে এনে তাকে বর্ণনার চেষ্টা তাই ব্যর্থ মনে হয়েছে আমার। অধ্যাপক এস. এম. হারুন-অর-রশীদ সাহেব বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারতেন। অবশ্য তার ভূমিকার দরকার অস্বীকার করছি না। কিন্তু ভূমিকায় যেসব ‘স্যাম্পল’ তিনি তুলে এনে দেখিয়েছেন ওসব দেখে বইয়ের খোলনলচে শুধু ধরা যাবে; লাবণ্যের কিচ্ছু ধরা যাবে না। ওই যে লোকে বলে, ইয়ে তো সির্ফ ট্রেইলার হ্যায়; পিকচার আভি বাকি হ্যায়, ওই ধরণের। পিকচারটাই স্বাদ। আসল রূপ, রস, গন্ধ। প্রতিটি পাতায় পাতায় জোছনা, সুরভি আর শব্দ-শাহজাদী। সুতরাং গাঁটের পয়সা ব্যয় করে সোনাভরা এই জলসায় সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা প্রকৃত রসিকজনের অবশ্য কর্তব্য। পরামর্শ হিসেবে ভেবে দেখা যেতে পারে।

কথাটা না বললেই না; প্রতিটি বই স্পর্শ করার সময় অদ্ভুত অনুভব ছেঁয়ে গেছে দেহমনে। মনে হয়েছে, নিটোল আদুরে কোমল শরীর ছুঁয়ে দিচ্ছি; একে শক্ত করে ধরা বারণ; ব্যথা পাবে খুব। ভীষণ যত্নে গড়া হয়েছে তাকে। প্রকাশক জানিয়েছেন, অনুভব মিথ্যে নয়। এবং অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দেহের পেলবতা বজায় রেখে গড়ন সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ গ্রন্থের তুলনায় ভিন্ন আকারে, ভিন্ন উচ্চতায়। প্রকাশক সম্ভবত বইগুলোর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন।

আমার তালিবুল ইলমদের বই সংগ্রহের কথা বলি মাঝেমাঝে। বলার আগে নিজে পড়ে, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই। অনেকদিক বিবেচনার পর উপযুক্ত মনে হলে তাদের বলি, ‘এবার বাছার ঘরে তোলা একে। এ তোমার ঘর আলো করে থাকবে।’ নিয়মের ব্যত্যয় আমি এই বইয়ের ক্ষেত্রেও করি নি। আগে পড়েছি। অতঃপর ভেবেছি। তারপর যাকে পেয়েছি সাহিত্যানুরাগী, তাকেই বলেছি, ‘একে ঘরে তুলতে ভুল যেন না হয়, বাবা। এ বড় ফলবতী হবে তোমার জন্য। দেরী করো না। শুভকাজে দেরী করতে নেই।’ আশা করছি পরীক্ষার ‘টানাপোড়েন’ সমাপ্ত হলেই ছেলেরা শাহজাদীর সন্ধানে নেমে পড়বে। আল্লাহ ওদের পথ আসান করুন।

পোস্ট টি শেয়ার করুন

অন্যান্য সকল পোস্ট