প্রশ্ন : মেয়েরা বিয়ের সময় যদি এমন শর্ত রাখে যে- তিনি জীবিত অবস্থায় তার স্বামী ২য় বিয়ে করতে পারবেন না, তাহলে শরীয়তের আলোকে বিষয়টা তো জায়েজ হিসেবেই জানতাম। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো- এ ধরনের শর্ত রাখা মহিলাদের শরীয়ত এর আলোকে কিভাবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে?? তাদেরকে কি হিংসুটে ভাবা ঠিক হবে?? এবং এমন বৈশিষ্ট্যের কারনে কেউ যদি মনে করে- এরকম হিংসুটে মেয়ের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে জড়ানোটা ঠিক হবে না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত কতটুকু যৌক্তিক ??যদিও পাত্র একাধিক বিয়েতে অতটা আগ্রহী নয়, কিন্তু পাত্রীর মানসিকতা যাচাইয়ের জন্য এমন প্রশ্ন করেছে৷ জাঝাকাল্লহু খইরন
উত্তর : ইসলামি শরিয়ত পুরুষের জন্য সক্ষমতার শর্তে একাধিক বিবাহ বৈধ করেছে। এবং স্ত্রীদের মাঝে ‘ইনসাফ’ বজায় রাখার বিষয়ে সবিশেষ সতর্কতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ইনসাফ বজায় রাখতে না পারলে পরকালে কঠিন শাস্তির ভয়ও দেখানো হয়েছে। সুতরাং শরিয়তকর্তৃক বৈধ কোনো বিষয়ের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করা যেমন উচিত নয়; সক্ষমতা না থাকলে বিয়ে করাও বৈধ নয়।একাধিক বিবাহ করতে পারবে না মর্মে শর্তারোপ করার কথা ফিকহের কিছু গ্রন্থে উল্লেখ থাকলেও এটি পছন্দীয় কাজ নয়। খাইরুল কুরুনের ও পবর্তীকালের কোনো আল্লাহওয়ালা আলিম এমন কাজ করেছেন মর্মে আমাদের জানা নেই। সুতরাং এটি না করাই উচিত।তবে, এমন শর্ত করার কারণে কাউকে হিংসুটে ভাবার সুযোগ নেই। আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত স্বভাবের কারণেই মানুষ ভালবাসায় ভাগ বসানোকে মেনে নিতে পারে না। বিশেষত, নারীরা স্বভাগতভাবে সংসারী হওয়ায় আপন সংসারে অন্যের ক্ষমতাপ্রতিষ্ঠাকে সহ্য করতে পারে না। এবং অনেক সময় এক্ষেত্রে বাড়াবাড়িও হয়ে যায়। তাই বলে এমন মনোবৃত্তিকে হিংসা বলা যায় না। স্বভাবগত এই দুর্বলতা অনুধাবন করা প্রতিটি দায়িত্বশীল পুরুষের জন্য জরুরি; নচেৎ সংসারে সুখ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।বি. দ্র. পাত্রী দেখার নামে পাত্র-পাত্রীর এমন সওয়াল – জওয়াব বা প্রশ্নোত্তর পর্বের অবতারণা করা শরিয়ামতে বৈধ নয়। শরিয়ত জরুরতের কারণে কেবল চেহারা দেখে নেওয়ার সুযোগ রেখেছে; প্রশ্ন ও উত্তরের সুযোগ নেই।
আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।