আসসালামু আলাইকুম
মেয়েদের সহশিক্ষা কি জায়েজ? আমি কি আমার বোন সন্তানকে স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে পড়াতে পারব?

উত্তর : ইসলামি আইন অনুযায়ী, গাইরে মাহরাম পুরুষ থেকে পরিপূর্ণ পর্দা করা প্রত্যেক নারীর জন্য ফরজ। গাইরে মাহরাম পুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে কথা বলা, তার দিকে দৃষ্টিপাত করা ও তার কাছাকাছি বসা সম্পূর্ণ হারাম। একই হুকুম পুরুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। উপরন্তু কুরআন কারিমে মেয়েদের ঘরে অবস্থানের আদেশ করা হয়েছে এবং বিনা প্রয়োজনে মেয়েদের ঘরের বাইরে যাওয়াকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুৎসাহিত করে বলেছেন, শয়তানরা (এবং বখাটেরা) তার দিকে বদনজরে তাকিয়ে থাকে।

সুতরাং ছেলে কিংবা মেয়ে কারও জন্যেই সহশিক্ষা বা কো-এডুকেশান বৈধ নয়; সুস্পষ্ট হারাম।

তবে, শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানি সাহেব হাফিজাহুল্লাহ ‘ফরজ ইলম’ অর্জনের জন্য অপারগতা হেতু সহশিক্ষাপদ্ধতির প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ও পাঠগ্রহণ করাকে দুটি শর্তের ভিত্তিতে জায়েজ বলেছেন।

১. শিক্ষা অর্জন দেশ ও মুসলিম জাতীর খেদমতের উদ্দেশ্যে হতে হবে। 

২.  চোখকে সব সময় নিচু করে রাখতে হবে,প্রয়োজন ব্যতীত কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকার দিকে তাকানো যাবে না।মহিলা/পুরুষ তথা অন্য লিঙ্গের সহশিক্ষার্থীদের সাথে তো কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখা যাবেই না।সর্বদা অন্য লিঙ্গর শিক্ষার্থী থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে। (ফাতাওয়া উসমানী-১/১৬০-১৭১)

উপরোক্ত শর্ত দুটি কেবল ফরজ ইলমের ক্ষেত্রে (ফরজে আইন ও ফরজে কিফায়া) প্রযোজ্য। যদি ফরজ ইলম শেখা উদ্দেশ্য না হয় অথবা বিকল্প ব্যবস্থা থাকে তাহলে সহশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া বা ভর্তি করানো বৈধ হবে না।

বি. দ্র. ফরজ ইলম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য যোগ্য উলামাদের শরণাপন্ন হতে হবে; ব্যক্তিগত মতামত দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।

পোস্ট টি শেয়ার করুন

অন্যান্য সকল পোস্ট