মাইলখানেক পথ হাঁটতেই হাঁফ ধরে যায়, পা ভারী হয়ে আসে, চলা দুস্কর হয়ে পড়ে। অথচ, দুপাশে বিস্তৃত সবুজ নিয়ে মনমুগ্ধকর পীচঢালা পথ, সকালের হালকা হীম হাওয়ার সাথে কলমি ফুলের সুবাস, অনতিদূর থেকে ভেসে আসা খেজুররসের মিষ্টি স্মরণ। তবু, জুব্বার নীচে জেগে ওঠা হালকা ঘামটাই মনযোগ দখল করে থাকে। মনে হয়, আর কতদূর হাঁটলে মিলবে গন্তব্য?
সাহাবি হযরত মারসাদ ইবনু আবি মারসাদ রা.। ইসলাম গ্রহণের আগে, যখন তিনি জাহিলিয়াতের পংকিল সমাজের একজন, ইনাক নাম্নী এক নারীর প্রেমে মাতোয়ারা হয়েছিলেন। ভালবাসতেন তাকে। প্রণয়ের ঘোরে এই অবৈধ সম্পর্ক তুচ্ছই মনে হয়েছিল তার। ইসলাম তার চোখ খুলে দিল। তিনি জানলেন, যিনা করা হারাম, যিনার দিকে টানে এমন কাজ করাও হারাম। ইনাককে তিনি পরিত্যাগ করলেন। কিন্তু, পূর্বকৃত অপরাধের অনুশোচনা তাকে কুড়ে কুড়ে খেত। অনুশোচনা লাঘবের জন্য একটি আমল তিনি করতেন। অদ্ভুত ও ঈর্ষনীয়। খোদ সাহাবায়ে কেরাম এই আমলের জন্য তাকে ঈর্ষা করতেন।
মাঝেমধ্যেই মক্কার কাফেরদের হাতে মুসলমান বন্দী হওয়ার খবর পাওয়া যেত। নব মুসলিমদের বন্দী করে তারা অত্যাচার-নিপীড়ন করত। হযরত মারসাদ ইবনু আবি মারসাদ রা. মদীনা থেকে সাড়ে তিনশ কিলোমিটার উত্তপ্ত বালুর নরকসদৃশ পথ পায়ে হেঁটে গভীর রাতে মক্কায় প্রবেশ করতেন। খুব গোপনে বন্দীকে মুক্ত করতেন এবং তাকে নিয়ে মদীনায় ফিরে আসতেন। অধিকাংশসময় দেখা যেত বন্দী সাহাবী আহত ও অত্যন্ত দুর্বল। হযরত মারসাদ রা. আহত সাহাবিকে নিজের কাঁধে তুলে নিতেন এবং মক্কা থেকে সেই আগুনে পথ হেঁটে মদীনায় ফিরে আসতেন। সুবহানাল্লাহ!
পায়ে ব্যথা কম মনে হয়। অথবা, ব্যথাটা সহ্য হয়ে আসে। একজন সাহাবি সহস্র বছর পর আমার মত যান্ত্রিক মানুষকে অনুপ্রেরণা দেন পথ চলার। অনুপ্রেরণা দেন, কেবল তাওবায় ক্ষান্তি না দিয়ে কিছু কাফফারাও দেওয়ার।

পোস্ট টি শেয়ার করুন

অন্যান্য সকল পোস্ট