মাদরাসাগুলোতে বেশ গুরুত্বের সাথে প্রতি বছরের শুরুতে উস্তাদগণ স্মরণ করিয়ে দেন, ইলম শেখার আগে নিয়ত শুদ্ধ করে নেওয়া অতি জরুরি। সহিহ বুখারির প্রথম হাদিসটি উল্লেখ করে তারা বলেন, নিয়ত হলো ইলম শেখার প্রথম আদব। নিয়ত যদি খাঁদযুক্ত হয় তাহলে যত চেষ্টাই করা হোক, যত কিতাব মুখস্থ করা হোক, যত সনদ বা ইজাযা গ্রহণ করা হোক; আখেরে তা ক্ষতির পাল্লা ভারী করবে। এই ইলম ‘সাহেবে ইলমের’ জন্য হবে গলার কাঁটা। দুনিয়া ও আখিরাতে এই ইলম তার জন্য সম্মানের বদলে লজ্জা বয়ে আনবে। সমস্ত অর্জন ধ্বংস করে দেবে। পরকালে নাজাতের বদলে তার জন্য অপেক্ষা করবে চরম দুর্ভোগের জাহান্নাম। সুনানু ইবনু মাজাহর ‘মুকাদ্দিমা’ থেকে কয়েকটি হাদিস দেখে নিন :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ “ مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ لاَ يَتَعَلَّمُهُ إِلاَّ لِيُصِيبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ” . يَعْنِي رِيحَهَا .
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে জ্ঞান দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয়, যদি কেউ সেই জ্ঞান পার্থিব স্বার্থ সিদ্ধির জন্য শিক্ষা করে, তবে সে কিয়ামাতের দিন জান্নাতের সুবাসও পাবে না। [২৫০]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ “ مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيَصْرِفَ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ فَهُوَ فِي النَّارِ ” .
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি নির্বোধের সাথে ঝগড়া করার জন্য অথবা আলিমদের উপর বাহাদুরি প্রকাশের জন্য অথবা তার প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জ্ঞানার্জন করে, সে জাহান্নামি। [২৫১]
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ “ لاَ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ وَلاَ لِتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ وَلاَ تَخَيَّرُوا بِهِ الْمَجَالِسَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَالنَّارُ النَّارُ ”
জাবির বিন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা আলিমদের উপর বাহাদুরি প্রকাশের জন্য, নির্বোধদের সাথে ঝগড়া করার জন্য এবং জনসভার উপর বড়ত্ব প্রকাশ করার জন্য ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা করো না। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, তার জন্য রয়েছে আগুন আর আগুন। [২৫২]
উপর্যুক্ত হাদিসগুলো পড়ার পর যদি অন্তরকে জিজ্ঞেস করি, ঠিক কী কী উদ্দেশ্য সামনে রেখে আমি ইলম শিখছি, শেখাচ্ছি বা চর্চা করছি, আল্লাহ ভাল জানেন, অনেকের উত্তরই হয়ত সন্তোষজনক হবে না। অনেকের আরবি শেখা, আকিদা শেখা, ফিকহ শেখার উদ্দেশ্যই হয়ত নিখাঁদ হবে না। হয়ত দেখা যাবে আরবি সে শিখতে চায় যাতে নিজেকে বিশেষ ভাবে উপস্থাপন করা যায়। আরবি জানি বলে বড়াই করা যায়। অনেকে হয়ত ফিকহ ও আকিদা শিখছেন যাতে উলামাদের তর্কে হারানো যায়। নিজের মন মতো মাজহাব বা মাসআলা বেছে নেওয়া যায়। এমনও হতে পারে কারও কারও নিয়ত, অমুক অনলাইন কোর্স করে তারপর নিজেও কিছু কোর্স খুলে বসবো। অনেককিছুই হতে পারে যা আসলে হওয়া উচিত নয়। যেগুলো হলে আমার জন্য অপেক্ষা করছে আগুন আর আগুন।
বিশেষ কাউকে উদ্দেশ্য করে এই লেখা নয়। তেমন ইচ্ছে থাকলে আরও আগেই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা যেতো। এই সমস্যা তো কেবল একজন মানুষের না; অনেকের বা অধিকাংশের। একটু চোখ বন্ধ করে ভাবি, নিজের কথাই ভাবি, অন্য কারও লেখা কপি করে বা লিংক শেয়ার করে আমি যখন কোনো আলিমের সাথে তর্কে লিপ্ত হচ্ছি, কেন হচ্ছি? একজনের একটা ভুল বক্তব্যের ইলমি খণ্ডন করতে না পারা সত্ত্বেও কিছু বলার জন্য, একটা পোস্ট বা মন্তব্য করার জন্য আমার মধ্যে যে অস্থিরতা সেটা কেন? কেন আমি নিজের অস্পষ্ট জানা বা বাংলা বই পড়ে জানা বিষয় নিয়ে কোনো আলিমের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ছি? তাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছি? নিঃসন্দেহে হতাশ হতে হবে। উপর্যুক্ত হাদিসগুলো সামনে আছে বলেই সামান্য সময়ের জন্য হলেও হতাশা চেপে ধরবে। যদি অনুভূতিশক্তি কিছুটা অবশিষ্ট থেকে থাকে।
এই রোগগুলো কিন্তু ইলমের পথে নামার আগেই ভেতরে বাসা বেঁধেছে। এমন ব্যাধিগ্রস্ত অন্তর নিয়ে ইলম শিখলে এবং সেই ইলম উদ্দেশ্য পূরণে কাজে লাগালে ফল কী হতে পারে, ভাবুন। আমাদের অধিকাংশের সমস্যা কি এখানেই নয়?
আমি বলছি না, কেবল ইলম শেখার আগেই এই নিয়তগত সমস্যা বা রোগ থাকে; ইলম শেখার পরও কারো কারো ভেতর এই রোগ জন্ম নিতে পারে। অনেকের নেয়। এবং তার নজিরও এই অনলাইনে ভুরি ভুরি। উদাহরণ টানলে তো অনেক টানতে হবে। এই যে একটা ‘অসততার’ কাণ্ড ঘটলো, একজন ব্যক্তির কারণে একটা অনলাইন প্লাটফর্ম ঝামেলার মুখে পড়লো, তারপর আমরা কী করলাম? আমরা এবার নিজেদের কোর্সগুলোর বিজ্ঞাপন শুরু করলাম এবং এই সুযোগে বাজার ধরার প্রাণান্ত চেষ্টা করে গেলাম। কেন? নিজেকে একটু প্রশ্ন করে দেখি। যে ইলম আমি অনলাইনে শেখাতে আগ্রহী সেটা শেখার নির্ধারিত আদব ও পদ্ধতি কি নেই? ইলম শেখার জন্য নির্দিষ্ট পথ ও পদ্ধতি কি সালাফ থেকে বিবৃত হয় নি? এই যে সমস্যা তা কি সালাফের পদ্ধতি বর্জনের কারণে নয়? এবং অনলাইনে আপনি যাদের শেখাবেন তারা কি আবারও একই কাজে লিপ্ত হবে না? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যার আলিম হওয়া দরকার সে কি ইলমের জন্য কষ্ট স্বীকার করবে না? যদি না করে, তো সবার কি আলিম হওয়া অপরিহার্য? বিশেষত যে ইলমের জন্য নিজেকে কষ্ট দিতে রাজি নয়?
অন্ততপক্ষে যাদের সামনে এই প্রশ্নগুলোর জবাব উপস্থিত আছে এবং যারা জানেন ইলম কেবল পুথিগত বিদ্যাকে বলে না; ইলম তালিম ও তারবিয়াতের সামষ্টিক রূপ, তারা তো এই প্রবণতা থেকে সরে আসা উচিত। ফরজ ইলমের চর্চা তো সব জায়গাতেই হতে পারে। মসজিদের উঠোনে, মাহফিলে এমনকি পথ চলতে চলতেও হতে পারে। কিন্তু যে ব্যক্তি শরয়ি অর্থে আলিম হতে চায় তার জন্য জরুরি হলো ইলমের জন্য নিজেকে পৃথক করা, আলাদা করা, উৎসর্গ করা। কুরআন কারিমের ভাষাটা পড়ুন :
وَ مَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِیَنْفِرُوْا كَآفَّةً فَلَوْ لَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآىِٕفَةٌ لِّیَتَفَقَّهُوْا فِی الدِّیْنِ وَ لِیُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ اِذَا رَجَعُوْۤا اِلَیْهِمْ لَعَلَّهُمْ یَحْذَرُوْنَ.
মুমিনদের সকলের একসঙ্গে অভিযানে বের হওয়া সঙ্গত নয়, তাদের প্রত্যেক দলের এক অংশ বহির্গত হয় না কেন, যাতে তারা দ্বীন সম্বন্ধে জ্ঞানানুশীলন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যখন তারা তাদের নিকট ফিরে আসবে। যাতে তারা সতর্ক হয়। -সূরা তাওবা (৯) : ১২২।
আসহাবে সুফফার জীবনি দেখুন, সমস্ত কাজ থেকে তারা নিজেকে আলাদা করেছেন, ক্ষুধায় কষ্ট করেছেন, অনাহারে বেহুশ হয়ে পড়ে গেছেন, মানুষ মৃগী রোগী ভেবে পাড়িয়েছে, পাগল বলেছে। তারপরও অন্য সব কাজ বাদ দিয়ে ইলমের জন্য তারা পড়ে থেকেছেন। দুএকটি হাদিসে চোখ বুলিয়ে নিন :
عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا صَلَّى بِالنَّاسِ يَخِرُّ رِجَالٌ مِنْ قَامَتِهِمْ فِي الصَّلاَةِ مِنَ الْخَصَاصَةِ وَهُمْ أَصْحَابُ الصُّفَّةِ حَتَّى تَقُولَ الأَعْرَابُ هَؤُلاَءِ مَجَانِينُ أَوْ مَجَانُونَ فَإِذَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ “ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا لَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ لأَحْبَبْتُمْ أَنْ تَزْدَادُوا فَاقَةً وَحَاجَةً ” . قَالَ فَضَالَةُ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন লোকদের সাথে নিয়ে জামা‘আতে নামায় আদায় করতেন, তখন কিছু লোক অসহনীয় ক্ষুধার যন্ত্রনায় নামাযের মধ্যেই দাঁড়ানো অবস্থা হতে পড়ে যেতেন। তারা ছিলেন সুফ্ফার সদস্য। তাদের এ অবস্থা দেখে বেদুঈনরা বলত, এরা পাগল নাকি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেষ করে তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতেন : আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট তোমাদের যে কি মর্যাদা রয়েছে তা তোমরা জানলে আরো ক্ষুধার্ত, আরো অভাব-অনটনে থাকতে পছন্দ করতে। ফাযালা (রাঃ) বলেন, সে সময়ে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। [জামে তিরমিজি, হা. – ২৩৬৮]
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَلَيْهِ ثَوْبَانِ مُمَشَّقَانِ مِنْ كَتَّانٍ فَتَمَخَّطَ فِي أَحَدِهِمَا ثُمَّ قَالَ بَخٍ بَخٍ يَتَمَخَّطُ أَبُو هُرَيْرَةَ فِي الْكَتَّانِ لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَإِنِّي لأَخِرُّ فِيمَا بَيْنَ مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحُجْرَةِ عَائِشَةَ مِنَ الْجُوعِ مَغْشِيًّا عَلَىَّ فَيَجِيءُ الْجَائِي فَيَضَعُ رِجْلَهُ عَلَى عُنُقِي يُرَى أَنَّ بِيَ الْجُنُونَ وَمَا بِي جُنُونٌ وَمَا هُوَ إِلاَّ الْجُوعُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একদিন আমরা আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি গোলাপী রংয়ের দুটি কাতান কাপড় পড়ে ছিলেন। তিনি একটি কাপড় দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন এবং বললেন, বেশ, বেশ, আবূ হুরাইরা আজ কাতান কাপড় দিয়ে নাক পরিষ্কার করছে! অথচ আমার অবস্থা এরূপ ছিল যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মিম্বার ও আইশা (রাঃ)-এর ঘরের মাঝখানে ক্ষুধার তাড়নায় কাতর হয়ে পড়ে থাকতাম। এ পথে কেউ এসে আমার ঘাড়ের উপর পা রাখত এবং মনে করত যে, আমি পাগল হয়ে গেছি। অথচ আমার মধ্যে কোন পাগলামী ছিল না, বরং ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমার এরূপ অবস্থা হতো। [সহিহ বুখারি, হা.-৭৩২৪]
ইলমের জন্য সালাফের আলিমগণ কত কষ্ট করেছেন তার নমুনা পাওয়া যাবে শাইখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দা রহ. লিখিত ‘সাফাহাতুম মিন সাবরিল উলামা’গ্রন্থে। {সম্ভবত জ্ঞান সাধনায় উলামায়ে কেরামের ত্যাগ ও কুরবানী নামে বইটি অনূদিত হয়েছে।} অথচ কিছু লোক সময় না থাকার অজুহাত তুলে অনলাইনে এবং অনেক সময় ছদ্মনামে ইলম শেখে ও শেখায়। ছদ্ম নামধারী কাউকে ইলম শেখানো বা আত্মগোপনকারী ছদ্মনামধারী কারও কাছ থেকে ইলম অর্জন বৈধ নয়।
তো যে বিলাসপ্রিয় কুঁড়ে গাফেল ইলম অর্জনের জন্য উস্তাদের শরণাপন্ন হতে অনাগ্রহী তাকে ইলম শেখানোর জন্য তোড়জোড় আখেরে আমাদের কী ফল দেবে? এতো আরামে-আয়েশে পাওয়া সম্পদের কী মূল্য থাকবে তার কাছে? কী করবে সে এই ইলম দিয়ে হাটেবাজারে বেচাবিক্রি ছাড়া? রাসুলুল্লাহ সা. কত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে গেছেন :
- মানুষের উপর এমন এক যুগের আগমন ঘটবে যখন অনেক হবে পাঠকের সংখ্যা আর হ্রাস পাবে ফকীহের সংখ্যা আর ইলম তুলে নেওয়া হবে ও রক্তপাত ছড়িয়ে পড়বে। -আলমুজামুল আওসাত তবারানী, হাদীস ৩২৭৭; আলমুসতাদরাক হাকীম ৪/৪৫৭, হাদীস ৮৪১২
- যখন অযোগ্য লোকের উপর কর্মের ভার অর্পণ করা হবে তখন কেয়ামতের অপেক্ষা কর। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯
সুতরাং ইলম অর্জনের আগে আমাদের উচিত নিয়ত শুদ্ধ করে নেওয়া। তারপর সঠিক পন্থায় ইলম অর্জনে ব্রতী হওয়া এবং নিজেকে ইলমের জন্য উৎসর্গ করা। যার এসবে আগ্রহ নেই তাকে ইলম শেখানো প্রকারান্তরে ইলমের ধ্বংস ও মানবজাতির বিনাশের প্রয়াস। আবেগ বা লোভের বলি হয়ে আমরা যাতে উম্মাহর ধ্বংস টেনে না আনি। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন।