প্রশ্ন : দেবর ভাবির সাথে অবৈধ কাজ করে পেটে বাচ্চা আসছে বয়স ৪০ দিন। কিন্তু দেবর অবৈধ কাজটা অস্বীকার করতেছে।জানার বিষয় হলো, কার কথা গ্রহণযোগ্যতাহবে দেবরের নাকি ভাবির? আর গ্রামের লোক চাইতেছে সেই দেবরের সাথে বিবাহ দিতে। বাচ্চা পেটে থাকা অবস্থায় সেই দেবরের সাথে বিবাহ হওয়াটা কি বৈধ হবে? অথবা অন্য কারো সাথে জায়েয হবে কিনা।

উত্তর : ইসলামি শরিয়ামতে, কোনো মহিলার স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় অন্য কারও সাথে তার বিয়ে বৈধ নয়। যদি তার তালাক হয়ে গিয়ে থাকে বা স্বামী মৃত্যুবরণ করে থাকে সেক্ষেত্রে ইদ্দত পূরণ হওয়া বা গর্ভস্থ সন্তান প্রসব করার পর অন্যত্র বিয়ে করা বৈধ হয়।

উক্ত মহিলার স্বামী জীবিত থাকলে দেবরের সাথে বা অন্য কারও সাথে তার বিয়ে দেওয়া বৈধ হবে না। যদি স্বামী না থাকে, তালাক দিয়ে থাকে বা মৃত্যুবরণ করে থাকে এবং তার ইদ্দতও পূরণ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে দেবর সহ যে কারও সাথে বিয়ে দেওয়া বৈধ হবে; অন্যথায় নয়।

মহিলার অভিযোগের বিপরীতে পুরুষ লোকটি যেহেতু অস্বীকার করছে তাই, উক্ত স্ত্রী লোকটিকে বলা হবে, ব্যভিচার প্রমাণিত হওয়ার ইসলামি যে পদ্ধতি আছে, তথা চারজন প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী উপস্থাপন করা, সেটা করতে। যদি সে স্বাক্ষী উপস্থাপন করতে পারে তাহলে স্ত্রীলোকটির কথা ধর্তব্য হবে। সেক্ষেত্রে উভয়ই ব্যভিচারের শাস্তি ভোগ করবে।

স্বামী জীবিত থাকলে সন্তান বর্তমান স্বামীর বলে গণ্য হবে; দেবরের সন্তান বলে গণ্য হবে না। আর যদি সেই নারী বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা হয়ে থাকে তাহলে যার সাথেই বিয়ে হোক, বিয়ে পরবর্তি ছয় মাস বা তার পরে বাচ্চার জন্ম হলে বাচ্চা তার বলে গণ্য হবে; ছয় মাসের আগে জন্ম নিলে ‘যিনার সন্তান’ বা পিতাহীন সন্তান বলে বিবেচিত হবে।

উল্লেখ্য, শরিয়তের দৃষ্টিতে ডিএনএ বা এই ধরণের মেডিকেল টেস্ট যিনার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। অডিও বা ভিডিও গ্রহণযোগ্য নয়।

পোস্ট টি শেয়ার করুন

অন্যান্য সকল পোস্ট