আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
শায়েখ, আপনার কাছে একটা হাদিসের ব্যাপারে প্রশ্ন ছিলো।
مصنف ابن أبي شيبة (عوامة)
35168- حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ، عَنْ هِشَامٍ ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ كَعْبٍ ، قَالَ : قَالَ كَعْبٌ : إِنَّ فِي الْجَنَّةِ يَاقُوتَةً لَيْسَ فِيهَا صَدْعٌ ، وَلاَ وَصْلٌ ، فِيهَا سَبْعُونَ أَلْفَ دَارٍ ، فِي كُلِّ دَارٍ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْحُورِ الْعِينِ ، لاَ يَدْخُلُهَا إِلاَّ نَبِيٌّ ، أَوْ صِدِّيقٌ ، أَوْ شَهِيدٌ ، أَوْ إِمَامٌ عَادِلٌ ، أَوْ مُحَكَّمٌ فِي نَفْسِهِ ، قَالَ : قُلْنَا : يَا كَعْبُ ، وَمَا الْمُحَكَّمُ فِي نَفْسِهِ ؟ قَالَ : الرَّجُلُ يَأْخُذُهُ الْعَدُوُّ ، فَيُحَكِّمُونَهُ بَيْنَ أَنْ يَكْفُرَ ، أَوْ يَلْزَمَ الإِسْلاَمَ فَيُقْتَلُ ، فَيَخْتَارُ أَنْ يَلْزَمَ الإِسْلاَمَ.
আমি ইউটিউবে দেখলাম একজন পাকিস্তানি ইউটিউবার এটা নিয়ে ভিডিও করেছে,এবং সেখানে বলেছেঃ
একটি জান্নাতে ৭০ হাজার ঘর থাকবে এবং প্রতি ঘরে ৭০ হাজার হুর থাকবে।এবং এই হিসাবে তিনি বলেছেন,যে ঐ জান্নাতে ৪৯০ কোটি হুর থাকবে (৭০হাজার×৭০ হাজার=৪৯০ কোটি)।
এবং এটা পাবেন নবী,সিদ্দিকীন,শহীদ,আর একটা ক্যাটাগরি বলেছেন।
আমি আসলে জেনারেল লাইনে পড়েছি,তাই এটা যাচাই করতে পারিনি।
আমার প্রশ্নটা হলো,
১ঃএই হাদিসটি সহীহ কিনা?
২ঃএই হাদিসে কি, ৪৯০ কোটি হুরের কথা বলা আছে?
৩ঃআর নবী, সিদ্দিক, শহীদের পাশাপাশি আরেকটা ক্যাটাগরি আছে,তারা কারা?
উত্তর :
১. হাদিসটি মুসান্নাফে ইবনু আবু শাইবাহ [হাদিস নং – ৩৫১৬৮], মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক [হাদিস নং – ৩৪০৩৪] ও ইমাম সুয়ুতি রহিমাহুল্লাহর তাফসির দুররে মানসুরে সুরা তাওবাহর ৭১ ও ৭২ নম্বর আয়াতের অধীনে উদ্ধৃত হয়েছে।
হাদিসটির সকল রাবি সিকাহ ও নির্ভরযোগ্য। সুতরাং সনদগতভাবে হাদিসটি সহিহ। তবে হাদিসটি মারফু নয়; মাওকুফ। যদিও এরকম হাদিসকে মারফুয়ে হুকমি বলা হয়ে থাকে।
২. হাদিসে বলা হয়েছে, প্রত্যেক জান্নাতে ৭০ হাজার ঘর থাকবে। প্রতিটি ঘরে ৭০ হাজার হুর থাকবে। সত্তর হাজারকে সত্তর হাজার দিয়ে গুণ করলে হয় ৪৯০০০০০০০০। অর্থাৎ সেই ইউটিউবার ঠিক কথাই বলেছেন।
৩. হাদিসে নবি, শহিদ ও ন্যায়পরায়ন রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে চতুর্থ প্রকারের ব্যক্তিদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, আল-মুহাক্কাম ফি নাফসিহি। মুহাক্কাম ফি নাফসিহি বলা হয় এমন মুসলমানকে, শত্রুরা যাকে ধরে নিয়ে গেছে এবং তাকে কুফর ও ইমান থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। অর্থাৎ সে চাইলে কুফরকে বেছে নিতে পারে; তাহলে সে মুক্তি পাবে। চাইলে ইসলামকে আঁকড়ে থাকতে পারে; সেক্ষেত্রে তাকে হত্যা করা হবে। এমন ব্যক্তি যদি ইসলামকে আঁকড়ে থাকে এবং শাহাদাতের পথ বেছে নেয় তাহলে তাকেও এই মহান নিয়ামত আল্লাহ তাআলা দান করবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই কাতারে শামিল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন, ইয়া আকরামাল আকরামিন।