[লেখাটি আবুল হাসান আলি নদভি রহ. লিখিত ও আবু তাহের মিসবাহ মুদ্দা জিল্লুহু অনূদিত ‘মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো’ গ্রন্থ থেকে অনুলিপি। [পৃষ্ঠা : ৪৩৭-৪৩৮] আলোচ্য অংশে আলি মিয়া নদভি পতনযুগেও মুসলিম প্রাচ্যের যা কিছু বৈশিষ্ট্য অবশিষ্ট ছিল সেসব আলোচনা করেছেন। আলোচনার ধারাবাহিকতায় মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধের আলোচনার পরই এই অংশটুকু তিনি লেখেন। উস্তাদের শাসন সম্পর্কে কথা বলার আগে লেখাটা পড়া উচিত। আমরা যারা পাশ্চাত্যের চিন্তা ও ধারা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চাই এখানে তাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা]

উস্তাদের শাসন ও শাস্তি সবসময় প্রাচ্যের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম অনুষঙ্গ ছিলো এবং স্বীকার করতে বাধা নেই, এর উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা যেমন ছিলো, তেমনি কখনো কখনো ব্যক্তিবিশেষের স্বভাবগত কারণে তা সীমা অতিক্রমও করতো। তবে সেক্ষেত্রে মা-বাবা হাতে জ্বলন্ত অঙ্গারের মত তা বরদাশত করে নিতেন। সন্তানকে প্রশ্রয় দেওয়া বা অভিযোগ করা তো দূরের কথা, উস্তাদের শানে অশোভন কোনো শব্দ পর্যন্ত উচ্চারণ করাকে ভাবা হতো শরাফত ও ভদ্রতার মানদণ্ড থেকে নীচের বিষয়। এসব ক্ষেত্রে তারা বরং সন্তানকে প্রবোধ দিতেন যে, উস্তাদের হক মা-বাবার উপরে। কখনো বলতেন, উস্তাদের শাসন ছাড়া কে কবে বড় হতে পেরেছে!

এক্ষেত্রে সাধারণ ও অভিজাত পরিবারে কোনো ব্যবধান ছিল না। উভয়ের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অভিন্ন; বরং অভিজাত পিতা-মাতার আচরণ হতো আরও অভিজাত। উস্তাদ কাসাঈর খিদমত সম্পর্কে আমিন-মামুনের প্রতি খলিফা হারুনুর রশিদের যে উপদেশ তার তুলনা কোথায়!

এ প্রসঙ্গে ইতিহাসে বহু বিস্ময়কর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যা প্রাচ্যের সংস্কৃতি ও মনমানসের প্রতিনিধিত্ব করে।  এখানে একটিমাত্র ঘটনা শুনুন:

তাজউদ্দিন আলদাজ, যিনি সুলতান শিহাবুদ্দিন ঘোরির আফগানিস্তানের শাসক ছিলেন, তার সম্পর্কে বর্ণিত আছে, পুত্রের শিক্ষাদীক্ষার দায়িত্ব তিন জনৈক শিক্ষকের হাতে অর্পণ করেছিলেন। সে যুগে শিক্ষক বাদশাহযাদাকে শাসন করতেও দ্বিধা করতো না। কিন্তু দুর্ভাগ্য, শিক্ষক এবার এমনই সীমাছাড়া হলেন যে, তার শাসন-প্রহারে শাহজাদার মৃত্যু হলো। কী নাযুক পরিস্থিতি! কিন্তু বাদশাহ চরম ধৈর্য-সংযমের পরিচয় দিয়ে বললেন, আপনি দূরে কোথাও চলে যান। কারণ সন্তানের মা সম্পর্কে আমি আশ্বস্ত নই। তার পক্ষ হতে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হয়ে যায়!

পোস্ট টি শেয়ার করুন

অন্যান্য সকল পোস্ট