প্রশ্নঃ—হিন্দুদের বিয়েতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? তারা যদি মুসলিমদের জন্য আলাদা খাবার ব্যাবস্থা রাখে তাহলে কি খেতে কোনো অসুবিধা হবে? মহিলাদের যাওয়ার বিষয়ে কোনো বাঁধা আছে ইসলাম অনুযায়ী?
উত্তরঃ- প্রথম কথা হচ্ছে হিন্দুদের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুতা রক্ষা করা এটা কিন্তু শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষেধ। শরীয়তে সম্পূর্ণভাবে বলা হয়েছে যে হিন্দু না শুধু অমুসলিম যারা আছে, তাদের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুতা করা যাবে না। সূরা আলে-ইমরানে ১১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ সুবহানুওয়াতাআলা বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ بِطَانَةً مِّن دُونِكُمْ لاَ يَأْلُونَكُمْ خَبَالاً
হে ইমানদারগণ, তোমরা মুমিন ব্যতিত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহন করো না।
এছাড়াও সূরা মুজাদালার ২২ নম্বর আয়াতের মধ্যে আল্লাহ্ সুবহানুওয়াতাআলা বলেছেন,
لَّا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ
যারা আল্লাহ্ তায়ালা এবং পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি দেখবেন না, রসূলকে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, আপনি দেখবেন না যে, আল্লাহ এবং রসূলের সাথে বিরুদ্ধাচারণকারীদের সাথে তাদের কোনো বন্ধুত্ব আছে। এমনকি তারা যদি তাদের পিতাও হয়, ভাই ও হয় তারপরেও না।
তো সুতরাং কোনো অমুসলিওমের সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুতা রাখা এটা ইসলামে জাযেজ হবে না। ইসলামে এটা বৈধ না। হ্যাঁ, সদ্ব্যবহার করতে হবে তাদের সাথে। উত্তম আচরণ করতে হবে। ভালো আচরণ করতে হবে। উত্তম আচরণ করা সদ্ব্যবহার করা দুইটা এক জিনিস না। আপনি একজনের সাথে ভালো আচরণ করতে পারেন, ভদ্র আচরন করতে পারেন, নম্র আচরণ করতে পারেন কিন্তু তার মানে এই না যে তার সাথে আপনার বন্ধুতা রাখতে হবে। আপনি পথিমধ্যে যাওয়ার সময় অনেক মানুষের সাথেই ভালো আচরণ করেন কিন্তু তার মানে এই না যে পথিক সবার সাথেই আপনার বন্ধুতা আছে। বন্ধুত্ব ভিন্ন জিনিস। ইসলাম আপনাকে যেই পদ্ধ্বতিতে চলতে বলে আপনি সেই পদ্ধতিতে চলবেন । এটা রক্ষা করে যদি কারো সাথে সদ্ভাব বজায় রাখা যায় তাহলে থাকবে, নতুবা থাকবে না। এখন কথা আসে, যদি তারা কোনো দাওয়াত দিয়ে থাকে, তো তাদের কোনো দাওয়াতে অংশগ্রহন কর্ তাদের পূজা পার্বণে অংশগ্রহন করা এগুলা তাদের সাথে বন্ধুতারই আলামত আসলে। সুতরাং এই সমস্ত অনুষ্ঠানে যাওয়াটা তাদের সাথে বন্ধুত্ব প্রকাশ করে। এটা ঠিক হবে না। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে এই সমস্ত অনুষ্ঠান, বিবাহের অনুষ্ঠান , তারা যেহেতু মুসলিম না, সেখানে বিভিন্ন রকমের অনৈসলামিক কাজ তারা করে থেকে। গান-বাদ্য হয়, ফ্রি-মিক্সিং হয়, বিভিন্ন রকমের শরীয়ত বহির্ভুত হারাম কাজ সেখানে হয়। তো আপনি যদি সেখানে যান, আপনি ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক এই সমস্ত হারাম কাজে কিন্তু আপনাকে লিপ্ত হয়ে যেতেই হবে ,আপনি চাইলেও এগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন না। আপনি চাইলেও গান না শুনে থাকতে পারবেন না, আপনি চাইলেও কোনভাবে ফ্রি-মিক্সিং এর হাত থেকে কিন্তু বাঁচতে পারবেন না। তো সেক্ষেত্রে এরকম হারাম কাজ যেখানে হয় সেখান থেকে দূরে থাকা আপনার জন্য অপরিহার্য। সুতরাং এই সমস্ত বিষয় সামনে রাখলে আমরা যেটা বুঝি সেটা হচ্ছে, একজন সাধারণ মানুষ, শুধু পুরুষ বা মহিলা এরকম না। একজন সাধারণ মানুষ যিনি মুসলমান , তার জন্য হিন্দুদের কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা, এটা ঠিক হবে না। এটা যায়েজ হবে না। আপনি যদি একান্তই তার সাথে ‘সদ্ব্যবহার’ থাকে, এবং তার সাথে যদি এরকম হয়, যে ভদ্রতা বজায় রেখে থাকতে হবে, আমি না গেলে কী মনে করবে এরকম চিন্তা যদি আপনার আসে , তো প্রথম কথা হলো, আপনি আপনার চিন্তাকে নবায়ন করুন। আল্লাহ কে, আল্লাহর দ্বীনকে সবার ওপরে রাখুন এবং এরপরে অন্যের সাথে বন্ধুতা অন্যের সাথে ভালো ব্যাবহার করার চেষ্টা করুন। দুই নম্বর হচ্ছে আপনি যেকোনো ভাবে অপারগতা প্রকাশ করতে পারেন । এবং পরিষ্কার বলতে পারন ওখানে বিভিন্ন গায়রে-শারয়ী কাজ হয়, এখানে আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব না। পরিষ্কার ভাষায় বলুন। এবং এই পরিষ্কার ভাষায় বলার অভ্যাস করুন । এটা খুবই দরকার। এটা আমাদের থেকে চলে যাওয়ার কারণে আমরা কিন্তু ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বিভিন্ন রকমের হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে যাই। আপনি যখন হারাম কাজ দেখে বাধা দিবেন না তখন খুব কাছাকাছি সময়ে কিন্তু আপনি নিজেই হারাম কাজে জড়িত হয়ে যাবেন। এজন্য হাদিসের মধ্যে এসেছে,
مَنْ رَأَى مُنْكَرًا فَاسْتَطَاعَ أَنْ يُغَيِّرَهُ بِيَدِهِ فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ بِلِسَانِهِ، فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
সুতরাং আমাদেরকে যেকোনো হারাম কাজ দেখলেই বাধা দিতে হবে এটা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। আল্লাহ্ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুন।